বয়স ২১ পেরিয়ে গেলে কী হবে?

ba72202799d08abe329e0267079d9277 5a3d29e424d36 - বয়স ২১ পেরিয়ে গেলে কী হবে?

বিগত ছয় সংখ্যায় আমরা নিকটাত্মীয়, পরিবারের সদস্য ও চাকরির মাধ্যমে গ্রিন কার্ড পাওয়ার সবগুলো দিকে আলোকপাত করেছি। আজ আমরা দেখব যেসব নিকটাত্মীয় ও পরিবারের সদস্যের জন্য আবেদন করা হয়েছে, তাদের অথবা তাদের আবেদনে ডেরিভেটিভ বেনিফিশিয়ারি হিসেবে যারা যুক্ত ছিল, তাদের মধ্যে যাঁদের বয়স আবেদন অনুমোদন হওয়ার আগে ২১ পেরিয়ে গেছে, তাঁরা কীভাবে যুক্তরাষ্ট্রে আসতে পারবেন অথবা আদৌ পারবেন কি না।

আমেরিকায় গ্রিন কার্ডধারী বা মার্কিন নাগরিকের সন্তান অথবা অন্য কোনো নিকট আত্মীয় যেমন বাবা-মা, ভাই-বোনের সন্তান যদি কোনো ইমিগ্রেশন পিটিশনের পরোক্ষ সুবিধাভোগী হন এবং ওই পিটিশন জমা দেওয়ার পর তাঁর বয়স যদি ২১ পেরিয়ে যায়, সে ক্ষেত্রে ইমিগ্রেশন আইনেই কিছু লিগ্যাল প্রোটেকশন রয়েছে, যা সাধারণত আমাদের অনেকেরই জানা নেই।
কোনো কোনো ক্যাটাগরিতে গ্রিন কার্ডের আবেদন নিষ্পত্তি করতে ইউএস সিটিজেনশিপ অ্যান্ড ইমিগ্রেশন সার্ভিস এবং ইউএস ডিপার্টমেন্ট অব স্টেটের অতি দীর্ঘ সময় লাগার কারণে, কোনো ব্যক্তির আবেদন ২১ বছর পূর্ণ হওয়ার আগে জমা হলেও তা অনুমোদন হওয়ার আগে ওই ব্যক্তির বয়স ২১ বছর পেরিয়ে যেতে পারে। এ কারণে অনেক আবেদনকারীকে আরও দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হয়। অথবা কখনো কখনো তাঁরা গ্রিন কার্ডের জন্য অযোগ্য হয়ে পড়েন। এসব ক্ষেত্রে সহায়তা করার জন্যই ‘চাইল্ড স্ট্যাটাস প্রোটেকশন অ্যাক্ট’ নামে এই আইন ২০০২ সাল থেকে কার্যকর হয়।
আপনি যদি সিটিজেন হন এবং সেই ক্যাটাগরিতে আপনার সন্তানকে আমেরিকায় আনতে চান বা ইতিমধ্যে আমেরিকায় থাকা আপনার সন্তানের স্ট্যাটাস লিগ্যাল করতে চান, সে ক্ষেত্রে প্রথমে খেয়াল করতে হবে, আপনার সন্তান ইতিমধ্যে সিটিজেন হয়ে গিয়েছে কি না। অভিভাবকের মাধ্যমে সিটিজেন হওয়ার নিয়ম প্রায়শই পরিবর্তন হয় এবং তা নির্ভর করে সন্তানের জন্ম তারিখ, অভিভাবক কত দিন আমেরিকায় ছিলেন এবং প্রাসঙ্গিক আরও কিছু বিষয়ের ওপর।
স্বামী বা স্ত্রী এবং ২১ বছরের নিচে অবিবাহিত সন্তানকে ইউএস ইমিগ্রেশন আইনে মার্কিন নাগরিকের নিকটতম আত্মীয় হিসেবে বিশেষ সুবিধা দেওয়া হয়। এই নিকটতম আত্মীয় ক্যাটাগরির ইমিগ্র্যান্টরা প্রতিবছর ইস্যু করা নির্দিষ্টসংখ্যক গ্রিনকার্ড প্রদানের সংবিধিবদ্ধ বাধ্যবাধকতার মধ্যে পড়েন না। আর সে কারণেই তাঁদের ২১ বছরের বেশি বয়সী বিবাহিত বা অবিবাহিত সন্তানের মতো পারিবারিক অগ্রাধিকার ক্যাটাগরিতে গ্রিন কার্ড পাওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হয় না।
চাইল্ড স্ট্যাটাস প্রোটেকশন অ্যাক্ট আসার আগে, মার্কিন নাগরিককে তাঁদের সন্তানের ২১ বছর পূর্ণ হওয়ার অনেক আগে আই-১৩০ ফরমের মাধ্যমে তাঁদের পিটিশন ফর এলিয়েন রিলেটিভ জমা দিতে হতো, যেন ওই আবেদন অনুমোদন হওয়ার আগে তাঁদের সন্তানের বয়স ২১ না হয়ে যায়। তারপরও প্রসেসিং সময় স্বাভাবিকভাবে অনেক দীর্ঘ হওয়ায় বেশির ভাগ মার্কিন নাগরিকের সন্তানেরই এই বয়স পেরিয়ে যাওয়া সমস্যার মুখোমুখি হতে হতো। এখন এই আইন আসার পরে, মার্কিন নাগরিকের সন্তানের বয়স ২১ বছর হওয়ার এক দিন আগেও আই-১৩০ ফরমের মাধ্যমে তাঁদের পিটিশন ফর এলিয়েন রিলেটিভ যদি জমা পড়ে এবং ওই পিটিশন অনুমোদন হওয়ার আগেই যদি সন্তানের বয়স ২১ পেরিয়ে যায়, তারপরও তাঁদের পারিবারিক অগ্রাধিকার ক্যাটাগরির পরিবর্তে নিকটাত্মীয় ক্যাটাগরিতে বিবেচনা করা হয়, যদি তাঁরা তখনো অবিবাহিত থাকেন।
কিন্তু আপনি যদি গ্রিন কার্ডধারী হন এবং আপনার সন্তান আমেরিকার বাইরে থাকে, তাহলে কী হবে? দুর্ভাগ্যবশত ২১ বছরের কম বয়সী অবিবাহিত সন্তানকে চাইল্ড স্ট্যাটাস প্রোটেকশন আইনে গ্রিন কার্ডধারীর নিকটাত্মীয় ক্যাটাগরিতে বিবেচনা করা হয় না, যদি না আপনি যখন গ্রিন কার্ড পেয়েছেন, তখন আপনার জন্য করা আবেদনে সে পরোক্ষভাবে (বেনিফিশিয়ারি হিসেবে) যুক্ত থাকে। এসব ক্ষেত্রে আপনি পারিবারিক অগ্রাধিকার ক্যাটাগরি এফ২এ-তে আপনার ২১ বছরের নিচের অবিবাহিত সন্তানের জন্য আবেদন করতে পারেন, কিন্তু অ্যাপ্লিকেশন অনুমোদন হওয়ার আগে তাঁর যদি ২১ বছর পূর্ণ হয়ে যায়, তবে তিনি এফ২বি ক্যাটাগরিতে স্থানান্তরিত হয়ে যাবেন।
কিন্তু আপনি গ্রিন কার্ডধারী অবস্থায় আপনার ২১ বছরের নিচের অবিবাহিত সন্তানের জন্য আবেদন করার পর আপনার সন্তানের বয়স ২১ বছর পূর্ণ হওয়ার আগে আপনি যদি মার্কিন নাগরিক হয়ে যান, তবে চাইল্ড স্ট্যাটাস প্রটেকশন আইনের আওতায় আপনি মার্কিন নাগরিক হওয়ার তারিখে আপনার সন্তানের বয়স স্থির হয়ে যাবে, অর্থাৎ অ্যাপ্লিকেশন অনুমোদন হওয়ার আগে ২১ বছর পূর্ণ হলেও তিনি এফ২বি ক্যাটাগরিতে স্থানান্তরিত হবেন না।
বিশেষ দ্রষ্টব্য: এই আর্টিকেল কোনো রকম আইনি পরামর্শ নয়। এটি কেবল ইউএসসিআইএস এবং ইউএস ডিপার্টমেন্ট অব স্টেটের ওয়েবসাইটে প্রদর্শিত এ-সংক্রান্ত তথ্যের সন্নিবেশমাত্র।

লেখক: ব্যারিস্টার-এট-ল, নিউইয়র্কপ্রবাসী
সেল: (৯২৯) ৩৯১-৬০৪৭; ই-মেইল: expa.expe@gmail. com

Facebook Comments