ট্রাম্পের টুইটে যুক্তরাজ্যে তোলপাড়

5082f7240f0b89cd827446fa7971ab68 5a1ff64ea347f - ট্রাম্পের টুইটে যুক্তরাজ্যে তোলপাড়
জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের সম্মেলন চলাকালে থেরেসা মে ও ডোনাল্ড ট্রাম্পের বৈঠক। ছবি: রয়টার্স

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের করা টুইট নিয়ে যুক্তরাজ্যে রীতিমতো তোলপাড় শুরু হয়েছে। যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী থেরেসা মে–কে উদ্দেশ করে টুইটারে ট্রাম্পের করা মন্তব্যের জবাবে দেশটির রাজনীতিকদের অনেকেই তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়ে পাল্টা টুইট করছেন। পাশাপাশি আজ বৃহস্পতিবার সকালে সংসদ অধিবেশনের শুরুতেই ট্রাম্পের অশোভন আচরণের কড়া সমালোচনা করে এর একটি বিহিত দাবি করেছেন দেশটির এমপিরা।

যুক্তরাজ্যে ট্রাম্পের যেকোনো সরকারি সফর আটকে দেওয়ার দাবি তুলেছেন লন্ডনের মেয়র সাদিক খান। আর এমপিদের পক্ষ থেকে দাবি উঠেছে, যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূতকে ডেকে প্রেসিডেন্টের আচরণের বিষয়ে সতর্ক করে দিতে।

ঘটনার সূত্রপাত হয় গত মঙ্গলবার। যুক্তরাজ্যের কট্টর বর্ণবাদী দল ‘ব্রিটেন ফার্স্ট’–এর ডেপুটি লিডার জেইডা ফ্রান্সেনের ইসলাম–বিদ্বেষী উসকানিমূলক দুটি টুইট নিজের অ্যাকাউন্ট থেকে রিটুইট করেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। বর্ণবাদী উসকানির অপরাধে জেইডা সাজাপ্রাপ্ত আসামি। ফলে এমন বর্ণবাদীর মন্তব্য শেয়ার করার কারণে যুক্তরাজ্যের রাজনীতিক ও বর্ণবাদবিরোধী আন্দোলনের নেতারা ট্রাম্পের সমালোচনায় মুখর হয়ে উঠেছেন।
গণমাধ্যমগুলোর প্রশ্নের জবাবে যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ের একজন মুখপাত্র বলেন, ট্রাম্প উগ্রবাদী দলের যে মন্তব্য প্রচার করেছেন, সেটি ঘৃণাপূর্ণ, এটি কেবল মিথ্যাচার ও বিদ্বেষকেই উসকে দেয়।

এরপর আজ সকালে আটলান্টিকের এপারের যুক্তরাজ্যের জনগণ ঘুম থেকে উঠেই দেখেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প প্রধানমন্ত্রী থেরেসা মে’কে উদ্দেশ করে অশোভন ভাষায় টুইট করেছেন। তিনি লিখেছেন, ‘আমার প্রতি নজর দেবেন না, ধ্বংসাত্মক উগ্রবাদী ইসলামিক সন্ত্রাসবাদের দিকে নজর দিন, যা যুক্তরাজ্যের মাটিতে ঘটছে। আমরা বেশ ভালোই করছি।’

ট্রাম্পের এমন আচরণকে যুক্তরাজ্য ও যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রীর প্রতি চরম অপমানজনক বলে মনে করছেন এমপিরা। তাঁরা সকাল থেকেই ট্রাম্পের এমন টুইটের প্রতিক্রিয়ায় পাল্টা টুইট করতে থাকেন। সংসদেও হয় উত্তপ্ত আলোচনা।

প্রধানমন্ত্রী থেরেসা মে আজ জর্ডান সফরে রয়েছেন। সংসদে সরকারের পক্ষে প্রশ্নের জবাব দেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যাম্বার রাড। তিনি বলেন, ট্রাম্পের উচিত টুইটার ব্যবহার বাদ দেওয়া। ট্রাম্পের এমন লাগামহীন আচরণ যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যুক্তরাজ্যের বিশেষ সম্পর্ককে ক্ষতিগ্রস্ত করবে বলেও সতর্ক করেন তিনি।

Facebook Comments